Home | বিবিধ | স্বাস্থ্য | আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুইপার, আয়া দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা

আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুইপার, আয়া দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা

নুরনবী সরকার, লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ হাসানুল আদম অফিস করেন মাসে এক বা দুই দিন। এই সুযোগে ওই দপ্তরের প্রধান অফিস সহকারী আশরাফ আলী হয়ে গেছে বড় কর্তা। তার ইচ্ছায় চলে দাপ্তরিক সকল কার্যক্রম। সড়ে জমিন ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’টি ৫০ শয্যায় উন্নত হলেও জনবল সংকটের কারনে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ওই উপজেলার সাধারণ মানুষ। ২১ টি চিকিৎসক পদ থাকলেও কাগজ কলমে ৩ জন আর বাস্তবে ১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। তিন জনের মধ্যে ডাঃ মনজুর মোর্শেদ দোলন ২ বছর ধরে ডেপুটিশনে সদর হাসপাতালে, স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. হাসানুল আদম অসুস্থতা জনিত কারনে প্রায় এক বছর ধরে রয়েছেন অলিখিত ছুটিতে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহফুজার রহমানেই ভরসা এ চিকিৎসা কেন্দ্রের। সেই সুযোগে প্রধান অফিস সহকারী আশরাফ আলী নিজেই স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার স্বাক্ষর করে জেনারেটর না চালু করে জ্বালানী বিল, জঙ্গল পরিস্কার না করে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বিল নিয়মিত উত্তোলন করে আসছে। স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. হাসানুল আদম মাসে এক বা দুই দিন এসে বেতন তুলে দিয়ে যায়। অফিস সহকারী আশরাফকে কমিশন না দিলে কোন কর্মকর্তা কর্মচারীর প্রশিক্ষণে যাওয়া হয় না। বড় বাবু নামে পরিচিত এ অফিস সহকারী ম্যানেজ হলে অফিস না করেও বেতন তুলতে কোন সমস্যা হয় না কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তার অনিহার কারণেই এ-ক্সরে মেশিন দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। এ ছাড়াও নার্স পদ ১৮টি থাকলেও ১০টি পদই শুন্য, ল্যাব টেকনেশিয়ান ২টি পদে, ও ফার্মাশিষ্ট ২টি পদে ১ জনও নেই। পরিসংখ্যান পদটিও বর্তমানে শুন্য রয়েছে। সুইপার পদে ৪ জন চাকুরী করলেও ২ জন কাজ করেন জরুরী বিভাগে, ১ জন রয়েছেন সিভিল সার্জনের বাসায়, অন্যজন অফিস করেন ইচ্ছেমত। সার্জিক্যাল চিকিৎসক না থাকায় যন্ত্রপাতিসহ অপারেশন রুমে বাসা বেঁধেছে পোকামাকড়। সুইপার, পিয়ন আর আয়ারাই চিকিৎসক সেজে বকশিসের বিনিময়ে কাজ করছেন জরুরী বিভাগে। চিকিৎসক না থাকলেও আন্তবিভাগে শুধুমাত্র পুলিশ কেসের রোগীরাই ভর্তি হচ্ছে চিকিৎসা সনদের জন্য । এ চিকিৎসা কেন্দ্রের অপরিচ্ছন্ন বাথরুম গুলোর দুর্গন্ধে সুস্থ রোগীও অসুস্থ হচ্ছেন। রোগীদের বিছানা উল্টে ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে। নতুন ভবনের মুল প্রবেশ পথটিও গরু ছাগলের বিশ্রামাগার হয়ে গেছে।

তবে প্রধান অফিস সহকারী আশরাফ আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি স্থানীয়, ফলে অনেকেই আমার কাছে একটু বাড়তি সুবিধা নেয়। যে কারণে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ হাসানুল আদমের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র একমাত্র চিকিৎসক ডা. মাহফুজার রহমান বলেন, আন্তবিভাগ, বর্হিবিভাগ, প্রশাসনিক সব বিষয় একার পক্ষের সামলায়ে নিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। প্রতি মুহুর্তে ব্যস্থ থাকায় আমি নিজেই যে কখন রোগী হয়ে যাই তার নিশ্চয়তা নেই।লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন একেএম মোস্তফা কামাল বলেন, চিকিৎসক চেয়ে প্রতিমাসে আবেদন পাঠানো হচ্ছে। কোন কাজ হচ্ছে না। তবে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ হলে এ সংকট পুরন হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহম্মদ জানান, চিকিৎসক সংকট পুরনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তিনি কথাও দিয়েছেন খুব দ্রæত এ সংকট নিরসন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ধূমপানের কারণে স্বরযন্ত্র ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার :   দেশে স্বরযন্ত্রের ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ রোগে আক্রান্ত ...

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্টদের উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি

স্টাফ রিপোর্টার :  বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের যৌথ ...