Home | ফটো সংবাদ | আজ খালেদার জামিন শুনানি, দুর্নীতির আরেক মামলায় যুক্তি

আজ খালেদার জামিন শুনানি, দুর্নীতির আরেক মামলায় যুক্তি

স্টাফ রিপোর্টার: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণের পর হাইকোর্টে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের দিনই আবার বিচারিক আদালতে দুর্নীতির আরেক মামলায় চলবে যুক্তি উপস্থাপন। ফলে উচ্চ আদালতের পাশাপাশি যে আদালতে খালেদা জিয়ার শাস্তি হয়েছে, সেখানেও দৃষ্টি থাকবে গণমাধ্যমের।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকারও বেশি জরিমানা হয়। সেদিন থেকেই তিনি ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী।

১২ দিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি দণ্ড বাতিলে আপিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আর দুই দিন পর শুনানিতে সে আপিল গ্রহণের পাশাপাশি স্থগিত করা হয় জরিমানার দণ্ড। আর কারাদণ্ড স্থগিত এবং জামিনে মুক্তির বিষয়ে রবিবার শুনানির কথা জানানো হয় সেদিনই।

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ আশা করছেন, আজকেই তার নেত্রী জামিন পাবেন। আর কারাগার থেকে বের হয়ে এসে তিনি ধানের শীষে ভোট চাইবেন।

খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণ করার আদেশ দেয়া বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জামিন আবেদন শুনবেন।

আবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারে বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামানের আদালতেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের মতো জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলারও বিচার চলছিল। এই মামলাও শেষ পর্ায়ে। গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি এবং ১ ফেব্রুয়ারি এই মামলাতেও যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ তথা দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল যুক্তি উপস্থাপন করে খালেদা জিয়া ও আরও তিন আসামির সাত বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি আসামি জিয়াউল হক ‍মুন্নার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে তার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। এই মামলায় অপর দুই আসামি খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান পলাতক। ফলে খালেদা জিয়ার পক্ষে যু্ক্তি উপস্থাপনই কেবল বাকি আছে।

এই মামলায় কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে হাজির করতে বৃহস্পতিবার এক আবেদনে রবিবার খালেদা জিয়াকে হাজির করার আবেদন করেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

বিএনপি নেত্রীর আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘খালেদা জিয়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিনে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে আমাদের জিম্মায় রয়েছেন। খালেদা জিয়ার হাজির হওয়ার বিষয়ে আদালতে আমরাই পিডাব্লিউ (প্রডাকশন ওয়ারেন্ট) আবেদন করবো। আদালত যদি মনে করে তাকে হাজিরের প্রয়োজন তাহলে তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আদেশ দেবেন এবং এরপর তাকে কারাগার থেকে আনার ব্যবস্থা করবেন। আর বিচারক যদি মনে করেন তার অনুপস্থিতিতে যুক্তি উপস্থাপন হবে, তাহলে সেটিই হবে।’

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলায় খালেদা জিয়া আদালতের মাধ্যমে হাজিরা দেন আইনজীবীদের মাধ্যমে।

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যে অভিযোগ

২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে ট্রাস্টের নামে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ। এরপর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে তাদের বিচার শুরু হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মার্কিন কংগ্রেসে রোহিঙ্গা নিধনকে গণহত্যা আখ্যা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন ...

সিংহের গর্জন এবার সত্যি সত্যি

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ ...