ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | আগৈলঝাড়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আগৈলঝাড়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Agailjhara Map..অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় শিক্ষা কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে উপবৃত্তির ভূয়া মাস্টাররোল করে সরকারী ছুটির দিনে অর্থ বিতরণের নামে ভাগাভাগি করে হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সেকায়েপ প্রকল্পের ২০১৩ সনের ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেনীর ২২৬জন শিক্ষার্থীর অনুকূলে বরাদ্দকৃত উপবৃত্তির টাকা নিয়ম নীতি অমান্য করে গত শনিবার ব্যাংক ছুটির দিন বিতরণ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন। এসময় গৌরনদী অগ্রণী ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার লিয়াকত আলীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপবৃত্তির তালিকায় তাদের নাম থাকায় শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে তাদের কাছ থেকে স্কুলের শিক্ষকরা মাস্টার রোলে স্বাক্ষর নেয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে তাদের উপবৃত্তির টাকা না দিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করে করে ভাগাভাগি করে নেয় শিক্ষা অফিসার আবুল হোসেন, স্কুলের কর্তৃপক্ষ ও ব্যাংক স্টাফরা। এছাড়াও উপবৃত্তি প্রাপ্তদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে শিক্ষা অফিসার ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের দিতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, এমন অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের ঘটনা প্রতিবারের। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই স্কুলের ২২৬জন উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সকলকে মাস্টাররোলে টাকা বিতরণের স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। তবে মাস্টাররোলে স্বাক্ষরকৃতদের মধ্যে ১৪জন শিক্ষার্থীকে কোন টাকা না দিয়ে আত্মসাত করেছে শিক্ষা কর্মকর্তা। তাদের প্রত্যেকের নামে আলাদা চেক ইস্যু করা হলেও ১৪জনকে কোন টাকা দেয়া হয়নি। এমনকি কোন শিক্ষার্থীকে চেক না দিয়ে নগদ অর্থ বিতরণ করে কর্তপক্ষ। মাস্টাররোলে স্বাক্ষর থাকলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ১৪জনের টাকা না দিয়ে ওই চেকগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষের নিকট শিক্ষা কর্মকর্তা জমা দিলেও চেকের টাকা ফেরৎ হিসেবে ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন তিনি। যার প্রমান পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ওই ১৪জন শিক্ষার্থীর টাকার পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার। ম্যানেজিং কমিটিকে না জানিয়ে কর্তৃপক্ষের টাকা বিতরণে হরিলুটের ঘটনায় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মৌখিক অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম তালুকদার রোববার রাজিহার স্কুলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গিয়েও বিতরণকৃত মাস্টাররোল ও উপবৃত্তির সুবিধাবঞ্চিত ১৪জনের চেকের টাকা কর্মকর্তাদের ব্যাংকে জমা দেয়ার সত্যতা পাননি বলে জানা গেছে। তাহলে ওই ১৪জনের টাকা গেল কোথায়? একইদিন উপজেলার বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাশাইল বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বিতরণে একই অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো আবুল কালাম তালুকদার বলেন, উপবৃত্তি বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি তার নজরে এসছে। উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন বলেও তিনি জানান। স¤প্রতি দুর্নীতিবাজ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও নির্বাচনের অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের একটি সাদাকাগজে স্বাক্ষর আদায় করে তাতে নিজের মত করে তার পক্ষে সুপারিশ লিখে উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিয়ে স্ট্যান্ড রিলিজ প্রত্যাহার করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক,অবৈধ অস্ত্র ও ভারতীয় রুপিসহ গ্রেপ্তার ৩

জাকির হোসেন পিংকু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুরে ও শিবগঞ্জ উপজেলার ...

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬লক্ষ ৩০ হাজার জাল ভারতীয় রুপিসহ গ্রেপ্তার ১

জাকির হোসেন পিংকু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের চৌকা গ্রামে ...