Home | জাতীয় | আগামীকাল বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন

আগামীকাল বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টার :আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।এবারের নির্বাচনে ৪৩ হাজার ৭১৩ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ভোট দেওয়ার সময় প্রত্যেক আইনজীবীকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট আনার কথা বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভবনে স্থাপিত ভোটকেন্দ্র, দেশের জেলা সদরের সব দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভোটকেন্দ্র এবং বাজিতপুরসহ দেশের মোট ১২টি উপজেলা পর্যায়ের দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বরাবরের মতো এবারও নির্বাচনে মূলত আওয়ামী লীগপন্থী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি প্যানেলের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

বিএনপি সমর্থকদের প্যানেলের প্রার্থী আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, গতবার রেজাল্টশিট ঠিকমতো দেওয়া হয়নি। এবারের নির্বাচনে সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। সরকারের হস্তক্ষেপে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা মুখ থুবরে পড়ছে।

প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এ নির্বাচনে কোন প্রকার অনিয়ম করা যাবে না। স্বচ্ছতার সঙ্গে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। প্রার্থীর স্বাক্ষরিত নিয়োগকৃত এজেন্টকে অবশ্যই ভোট গণনার ফলাফল সম্বলিত রেজাল্টশিট প্রদান করতে হবে। ওই রেজাল্টশিটে কোন প্রকার কাটাছেঁড়া বা ঘষামাজা করা যাবে না। ভোটারদের স্ব স্ব আইনজীবী সমিতির পরিচয়পত্র দিয়ে ভোট প্রদানের সুযোগ দিতে হবে। এই নির্বাচনে ঝালকাঠি জেলায় ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

আওয়ামী সমর্থিত সাদা প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল বাসেত মজুমদার বলেন, সারাদেশের আইনজীবীরা তাদেরকে (বিএনপির নীল প্যানেল) সমর্থন করছে না। এ কারণে পরাজয়ের ভয়ে অমুলক কথা বলে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পায়ঁতারা করছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি সচেতন আইনজীবীরা এতে কান দেবে না।

আব্দুল বাসেত বলেন, এবারের বার কাউন্সিল নির্বাচনে আমরা কিছু নিয়ম করেছি। ছবিসহ ভোটার তালিকা করা হয়েছে। ভোটারদের ভোটের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। যার কারণে জাল ভোটের কোনো সুযোগ নাই।

নিয়ম অনুসারে ১৪টি পদের মধ্যে আইনজীবীদের ভোটে সাধারণ আসনে সাতজন এবং আঞ্চলিকভাবে (গ্রুপ আসনে) সাতজন আইনজীবী বার কাউন্সিল পরিচালনার জন্য সদস্য নির্বাচিত হন। পরে নির্বাচিত ১৪ সদস্যের মধ্যে থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও মতামতের ভিত্তিতে একজনকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। তবে আইন অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল বার কাউন্সিলের সভাপতি হবেন।

এবারের নির্বাচনে সাধারণ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাতজন প্রার্থী হলেন-বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেত মজুমদার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সৈয়দ রেজাউর রহমান, আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও বার কাউন্সিলের ফাইন্যান্স কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান শ. ম. রেজাউল করিম, বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম (জেড আই) খান পান্না, পরিমল চন্দ্র গুহ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল।

পাশাপাশি গ্রুপ আসনের সাত প্রার্থী হলেন— গ্রুপ এ-তে বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির নির্বাচিত সদস্য ও লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, গ্রুপ বি-তে মো. কবির উদ্দিন ভূঁইয়া, গ্রুপ সি-তে ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, গ্রুপ ডি-তে এ. এফ. মো. রুহুল আনাম চৌধুরী, গ্রুপ ই-তে পারভেজ আলম খান, গ্রুপ এফ-তে মো. ইয়াহিয়া এবং গ্রুপ জি-তে রেজাউল করিম মন্টু।

সাধারণ আসনে বিএনপি সমর্থিত সাত প্রার্থী হলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, ফজলুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার, মো. বোরহান উদ্দিন, হেলালউদ্দিন মোল্লা, মো. আব্বাস উদ্দিন ও সাবেক সংসদ সদস্য আসিফা আশরাফী পাপিয়া।

পাশাপাশি গ্রুপ আসনের সাত প্রার্থী হলেন: গ্রুপ এ-তে  মো. মহসীন মিয়া, গ্রুপ বি-তে জীবন কুমার গোস্বামী, গ্রুপ সি-তে শেখ মোখলেসুর রহমান, গ্রুপ ডি-তে মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, গ্রুপ ই-তে এম আর ফারুক, গ্রুপ এফ-তে মো. ইসহাক, গ্রুপ জি-তে-এটি.এম. ফায়েজ।

সাধারণ আসনের সাতটি গ্রুপের মধ্যে যেসব আইনজীবী সমিতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে হয়েছে সেগুলো হলো: গ্রুপ এ-তে ঢাকা জেলার সব আইনজীবী সমিতি, গ্রুপ বি-তে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর জেলার আইনজীবী সমিতি, গ্রুপ সি-তে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার আইনজীবী সমিতি, গ্রুপ ডি-তে কুমিল্লা জেলা ও সিলেট জেলা অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি, গ্রুপ ই-তে খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি, গ্রুপ এফ-এর মধ্যে রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি এবং গ্রুপ জি-তে রয়েছে দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলার আইনজীবী সমিতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

খালেদার জন্মদিনে কেকের বদলে দোয়া

বিশেষ প্রতিনিধি : এ বছর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা ...

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বিশেষ প্রতিনিধি : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ...