ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | আকিজ সিমেন্টের নামে ছাতকে শতাধিক একর জমি দু’যুগ ধরে অনাবাদি

আকিজ সিমেন্টের নামে ছাতকে শতাধিক একর জমি দু’যুগ ধরে অনাবাদি

Akij Photoআমিনুল ইসলাম হিরন, ছাতক: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাজনামহল-শ্যামপাড়া এলাকায় প্রায় শতাধিক একর ফসলী জমি দু’যুগ ধরে অনাবাদি-পতিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দু’ফসলী এসব উর্বর জমি পতিত অবস্থায় যুগ-যুগ ধরে পড়ে থাকায় প্রতি বছর প্রায় ৩ হাজার মন খাদ্য শস্য উৎপাদন থেকে এখানের লোকজন বঞ্চিত হচ্ছে। প্রায় দু’যুগ আগে এসব মুল্যমান ফসলি জমি বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ক্রয় করেন আকিজ ফ্যাক্টরীর মালিক শেখ আকিজ উদ্দিনের পুত্র শেখ বশির উদ্দিন। সিমেন্ট কারখানা প্রতিষ্ঠার নামে এ জমি ক্রয় করলেও ক্রয়ের পর থেকেই এসব ফসলী জমি অনাবাদি হিসেবে পড়ে রয়েছে। ফলে বিগত দু’যুগে এখানের এ জমিতে কৃষি অফিসের হিসেব মতে প্রায় ৭৫ হাজার মন খাদ্যশস্য উৎপাদন হবার কথা। কিন্তু এখানে আকিজ সিমেন্ট কারখানা প্রতিষ্ঠা বা ফসল উৎপাদন কিছুই হচ্ছেনা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৮ সনে ছাতকের কুমনা সহ আশপাশ মৌজার প্রায় শতাধিক একর ফসলী জমি অস্থানীয় শেখ আকিজ উদ্দিনের পুত্র শেখ বশির উদ্দিন আকিজ সিমেন্ট কোম্পানী প্রতিষ্ঠার নামে কৃষকদের কাছ থেকে নামমাত্র মুল্যে ক্রয় করেন। একই সাথে স্থানীয় দালালচক্রের সহযোগিতায় কুমনা মৌজার প্রায় সাড়ে ৭ একর সরকারি জমিও দখল নেন তিনি। অবশেষে শেখ বশির উদ্দিন নিজেকে কুমনা গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে ৯৮’ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়েলের ২৭৪নং অনুচ্ছেদের শর্তসাপেক্ষে ‘একসনা’ বন্দোবস্ত গ্রহন করেন ওই জমি। বন্দোবস্তকৃত সরকারি জমি শ্রেনী পরিবর্তন করা সম্পূর্নরূপে বেআইনি হলেও বন্দোবস্ত নেয়ার পর-পরই সুরমা নদী থেকে ড্রেজিং করে এসব জমিতে মাটি ভরাট করা হয়। স্থানীয় ভূমি অফিস বিষয়টি অবগত হয়ে একই সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এবং ৫ নভেম্বর বন্দোবস্ত শর্তভঙ্গের কারনে এবং বিনা অনুমতিতে মাটি ভরাটের কারনে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবেনা এই মর্মে শেখ বশির উদ্দিনকে পর-পর দুটি নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারনে এসব নোটিশের জবাব না দেয়ায় তৎকালীন তহশিলদার প্রশান্ত কুমার চৌধুরী সরকারি শর্তভঙ্গ ও আইন অমান্য করায় আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি বরাবরে ৯৯’ সালের ৭ জানুয়ারি একটি প্রতিবেদন জমা দেন। এ প্রেক্ষিতে একই সালের ১০ আগষ্ট শেখ বশির উদ্দিনের বন্দোবস্ত বাতিল করে লাল পতাকা টানিয়ে জমি সরকারি দখলে নেয়া হয় এবং নদী থেকে সরকারের রয়্যালিটি ফাঁকি দিয়ে বিনা অনুমতিতে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করায় শেখ বশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৩১ লাখ ২৭ হাজার ৫শ’ টাকার একটি সার্টিফিকেট মামলা ২৩ আগষ্ট রুজু করা হয়। জাল কাগজপত্র প্রস্তুত ও প্রতারনার মাধ্যমে সরকারি ভূমি ও স্থানীয় কৃষকদের জমি নিজ দখলে নিয়ে শেখ বশির উদ্দিন দু’যুগ ধরেই কারখানা নির্মাণ না করে পতিত অবস্থায় ফেলে রেখেছেন। স¤প্রতি এসব ফসলী জমির দু’দিকে সীমানা প্রাচীর নির্মান করে ভূমিকে একটি সীমাবদ্ধ এলাকায় রাখা হয়েছে। এদিকে যুগ-যুগ ধরে দু’ফসলী আবাদি জমিকে অনাবাদি জমিতে পরিনত করে পতিত অবস্থায় ফেলে রাখায় কৃষকরা খাদ্যশস্য উৎপাদন থেকে বঞ্চিত। স্থানীয়দের বেশ কিছু ফসলী জমি আকিজ কোম্পানী কর্তৃপক্ষ ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে ৪৪তম বিজ্ঞান মেলা- ২০২২ উদযাপিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণার মদনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ৪৪তম জাতীয় ...

মদনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ- ২০২২ উদযাপন

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ ‘দুর্ঘটনা দুর্যোগ হ্রাস করি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ...