ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | আওয়ামীলীগের আধিপত্য নিয়ে বিরোধে ১০ জন খুন! প্রকম্পিত জাজিরায় বিশেষ অভিযান শুরু \ ২৫৬ জন কে আসামী করে পাল্টাপাল্টি মামলা \ গ্রেফতার-১৯

আওয়ামীলীগের আধিপত্য নিয়ে বিরোধে ১০ জন খুন! প্রকম্পিত জাজিরায় বিশেষ অভিযান শুরু \ ২৫৬ জন কে আসামী করে পাল্টাপাল্টি মামলা \ গ্রেফতার-১৯

faridpurআবুল হোসেন সরদার ,শরীয়তপুর প্রতিনিধি  : জাজিরায় আওয়ামীলীগের  আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা,গুলী বোমা বিস্ফোরন,ভাংচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১০ জন খুন হয়েছে। প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে পুরো জাজিরা উপজেলা । পাঁচ দিনে ২শ ৫৬ জনকে আসামী করে ৫টি মামালা দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে রোববার থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ গত পাচঁ দিনে ১৯ জন গ্রেফতার করেছে । গ্রেফতারের আতংকে গা ঢাকা দিয়েছে জাজিরা  আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতা কর্মীরা। এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে উভয় গ্রæপের নেতারা।
জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্রে  জানাগেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক ও জেলা আওয়ামীলীগের  সহসভাপতি মোবারক আলী সিকদার সমর্থকদের মধ্যে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর যাবত বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে উভয় গ্রæপের সমর্থকদের মধ্যে  গত  ৬ মাস যাবত মুখোমুখি সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। উভয় পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় দু’গ্রæপের সমর্থকরা প্রায় সহ¯্রাধিক ককটেলের বিস্ফোরন ঘটায়। সংঘর্ষের সময় বিক্ষুদ্ধ জনতা প্রায় সহ¯্রাধিক ঘর-বাড়ি ও দোকানপাট ভাংচুর ,লুটপাট অগ্নিসংযোগ করে বিনষ্ট করেছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে পুলিশ শর্টগানের গুলী ও টিয়ারসেল সহ দু’শতাধিক গুলী বর্ষন করে।ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২ শতাধিক ককটেল উদ্ধার করে। এ সব  সংঘর্ষে  ২০১১ সালের ৮ মে জাজিরা ইউনিয়নের হাওলাদার কান্দি গ্রামের স্বপন হাওলাদার (২৬), ২২ নভেম্বর জাজিরার গোপালপুরে আ‘লীগ কর্মী নুরুজ্জামান (৪৮), ২৭ নভেম্বর বড়কান্দি ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী ফকির, ২০১২ সালের ২১ আগষ্ট জাজিরা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের জামাল মাদবরের কান্দি গ্রামে আশকর আলী কবিরাজ ও সামছেল মোড়ল, ৩০ আগষ্ট  শরীয়তপুর পৌর এলাকার আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আঃ মান্নান সরদার,১৫ নভেম্বর বড়কান্দির হারুন সরদার, ২০১৩ সালের ২৮ এপ্রিল বিকে নগর ইউনিয়নের তোফায়েল আহমেদ টয়েল ও সর্বশেষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিলাসপুর মুলাই বেপারী কান্দি গ্রামের আবুল হোসেন সরদার সহ ১০ জন নিহত ও পুলিশসহ   প্রায় ৫ শতাধিক লোক আহত  হয় । গুলী ও বোমার ঝলসানিতে পঙ্গুত্ব বরন করেছে প্রায় ৫০ জন ।বোমা বানাতে গিয়ে আহত হয়েছে ২৫ ব্যক্তি। এ সব সংঘর্ষের  ঘটনায় একাধিক মামলায় প্রায় ৫ শতাধিক লোকজনকে আসামী করা হয়। বিশেষ করে গত ৫ দিনে ২শ ৫৬ জনকে আসামী করে উভয় গ্রæপের ৫টি মামলা দায়ের করেছে। একে একে এ বিরোধ জাজিরা পৌর এলাকা, বড়কান্দি, বিলাসপুর, বিকেনগর, পূর্ব নাওডোবা,মুলনা, জয়নগর,পালেরচর  ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশী সহিংস ঘটনা ঘটছে সাংসদ মোজাম্মেল হকের নিজ ইউনিয়ন বিলাশপুরে।  এ সব এলাকায় প্রতিটি ঘরে ঘরে ককটেল , ঢাল, শরকি, রামদা,ছেনদা, টেটা, বল্লব,লাঠিসোটা সহ বে-অইনী অস্ত্রে র ঝনঝনানি রয়েছে । যে কোন সময় যে কোন পরিস্থিতিতে তারা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ঐ সব অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
দফায় দফায় এ সংঘর্ষে পুরো জাজিরা উজেলা প্রকম্পিত হয়ে উে ঠছে।  পুলিশ ,র‌্যাব সহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করার পরে ও থামছেনা দু’গ্রæপের  এ দাঙ্গা-হাঙ্গামা। ধীরে ধীরে বেসামাল হয়ে উঠে জাজিরার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি। গত বৃহস্পতিবার জাজিরা থানার পুলিশ জাজিরা টিএন্ডটি মোড় মুন্সিকান্দি, হরিয়াসা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৬ জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। এ ছাড়া  বার বার আইন শৃংখলা সভা করে ও প্রশাসন কোন পক্ষকেই  যেন নিবৃত করতে পারছেন না।এ অবস্থায় গত রোববার থেকে শরীয়তপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জজিরা উপজেলার সর্বত্র বে আইনী অস্ত্র উদ্ধার  ও   সন্ত্রাসী গ্রেফতার করতে  আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন শাখা বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।  অপারেশনের ১ম দিনে রোববার আওয়ামীলীগ নেতা মোশারফ মোল্যা, ছাত্রলীগ নেতা  সোহাগ ও জাজিরা উপজেলা ছাত্রলীগের  সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আক্কাছ মুন্সিকে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশ রাজনৈতিক  চাপে রফিকুল ইসলাম  আক্কাছ মুন্সি কে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী গ্রেফতারের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে না  আসা পর্যন্ত অভিযান চলবে।দুই গ্রæপের দুই প্রধান বিএম মোজাম্মেল হক ও মোবারক আলী সিকদার কোন গ্রæপের কথা অস্বীকার করে অভিযান কে স্বাগত জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলাআওয়ামীলীগের সহসভাপতি মোবারক আলী সিকদার বলেন, জাজিরায় ঈদানিংকালে যারা দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করছে তারা আমার লোক নয়। তারা বর্তমান এমপি মোজাম্মেল হক এর লোক। বিলাসপুর এলাকায় এমপির নিজের লোকের মধ্যে একপক্ষ অপর পক্ষের বাড়ি ঘর ভাংচুর লুটপাট করে এতে নিজের লোকের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ফলে এলাকায় আইন শৃংখলা পরিস্থিতির মারাতœক অবনতি হয়।  এ অবস্থায় আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কে  সঠিক ও কঠোর  পদক্ষেপ নিয়ে  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য আহবান জানাই।
শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি ও আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, আমার কোন গ্রæপ নেই।  আমি  ঐ এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধি। প্রতিটি লোকের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার। কিছু সন্ত্রাসী, চাদাবাজ,অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করেছে। প শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ  বলেন, স্থানীয় আওয়ামীলীগের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাজিরায় যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ন্ত্রন করতে আমরা গোপন অভিযান শুরু করেছি। শীঘ্রই  পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।পুলিশ আইন শৃংখলা পরিস্থিতি উন্নতির জন্য  যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে আমি স¦াগত জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধিনেই হবে : হানিফ

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান ...

সুন্দরগঞ্জে পৌর কর্মচারীদের কর্ম-বিরতি

আবু বক্কর সিদ্দিক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) থেকেঃ  গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌর কর্মকর্তা- কর্মচারীরা কর্ম-বিরতি ...