Home | আন্তর্জাতিক | আইনি বেড়াজালে পদ্মাসেতু দুর্নীতি মামলার তদন্ত

আইনি বেড়াজালে পদ্মাসেতু দুর্নীতি মামলার তদন্ত

স্টাফ রিপোর্টার, ১১ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) জটিলতায় ব্যহত হচ্ছে বহুল আলোচিত পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প দুর্নীতি মামলার তদন্ত কাজ।

মামলার তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দদুক) কতৃক গঠিত কমিটি তদন্ত কাজ কিছুটা এগিয়ে নিয়েছে। তবে, মামলার বিষয়ে মূল নথি এসএনসি-লাভালিনের কর্মকর্তা রমেশের ডায়েরি কানাডা সরকার দুদককে এখনো সরবারহ না করায় মামলার তদন্ত কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ওই ডায়েরি দুদকের হাতে না এলে তদন্ত কাজে তেমন অগ্রগতি হবে না বলেও মনে করছে তদন্ত কমিটি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, পদ্মাসেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দায়ের করা মামলা আদালতে প্রমাণের মূল ভিত্তিই হলো কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহর কাছে থাকা ডায়েরি। যা  বর্তমান কানাডিয়ান আদালতের নির্দেশে পুলিশের কাছে আছে। এ ডায়েরি পাওয়া গেলেই জানা যাবে পদ্মাসেতু দর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের নাম। ডায়েরিটি না পাওয়া গেলে দুদকের কাছে যে তথ্য প্রমাণ আছে তা দিয়ে জড়িতদের দোষী সাবস্ত করা সম্ভব হবে না।
আরো জানা গেছে, দুদক আইন অনুযায়ী মামলার তদন্ত কাজ পরিচালনার নির্ধারিত সময় ৪৫ দিন। বিশেষ কারণে এ সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব না হওয়ায় তদন্ত দল সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন করে। প্রতিবেদন জমা দিতে আদালত চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেন। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে তদন্ত দল। এরপর অধিকতর তদন্তের জন্য আরো সময় বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করবেন তারা।
তদন্ত দল সূত্র জানায়, আগামী এপ্রিল মাসের ১৭ থেকে ১৮ তারিখে কানাডায় রমেশ শাহ ও মোহাম্মদ ইসমাইলের বিরুদ্ধে করা মামলার শুনানি হবে। ওই শুনানি শেষ হলে কানাডা সরকার রামেশ শাহর ডায়েরিসহ বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ দুদককে সহবারহ করতে পারে। তবে, বিষয়টি নির্ভর করছে কানাডা সরকারের ওপর।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুদকের জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল  জাহিদ রাজধানীর বনানী থানায় পদ্মাসেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে মামলাটি করেন। সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের তিন কর্মকর্তা সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল ও আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ, সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দরপত্র মূল্যায়ণে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব কাজী ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের ও এসএনসি-লাভালিনের স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট কোম্পানি লিমিটেডের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. মোস্তফা।
এ সাত আসামির মধ্যে সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (নদী শাসন) কাজী ফেরদৌস গেফতার হওয়ার পর গত ৫ ফেব্রুয়ারি মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান। গত ২৬ ডিসেম্বর তারা গ্রেফতার হয়েছিলেন।
এদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ জাবের জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। তবে, আদালত তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমার্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
x

Check Also

পর্তুগাল প্রবাসী মোহাম্মদ হান্নানের লাশ ১৫ দিন ধরে একটি হাসপাতালে

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগাল। পর্তুগালের সানতারাই শহরের একটি ...

পর্তুগালের লিসবনে পর্তুগীজ ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর শুভ উদ্বোধন

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম বিশেষ প্রতিনিধি, পর্তুগাল। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ৮ই মে ...