ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে উঠছে হাকালুকির জেলেপল্লীর শিশুরা

অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে উঠছে হাকালুকির জেলেপল্লীর শিশুরা

moulavibazarজালাল আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: অপুষ্টি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অভাব-অনটন, অসুখ বিসুখ, পিতা-মাতার অসচেতনতাসহ পারিপার্শ্বিক প্রতিকূল অবস্থার সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করে বেড়ে ওঠে এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতীরের জেলেপল্লীর শিশুরা। হাকালুকি হাওরের দক্ষিণ তীরে কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রাম। দক্ষিণ ও উত্তর সাদিপুর মিলে সাদিপুর গ্রাম। গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৪ হাজার ৯৮১ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, হাওর এলাকার সাদিপুর গ্রামে শূন্য থেকে ১১ মাস বয়সি শিশুর সংখ্যা ১৪৫ এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা ৬৫০। স¤প্রতি সরেজমিন সাদিপুর গ্রামে গেলে প্রথমেই চোখে পড়ে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশ। যেখানে শিশুর জীবনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় লোকজনের মতে, হাওর অঞ্চলে ৬ মাস থাকে পানি আর ৬ মাস থাকে শুষ্ক মৌসুম। তবে  ছোট শিশুদের বর্ষা মৌসুমে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ বেশি হয়। জেলেপল্লীর গৃহবধূ সেলিনা বেগম (৩০) জানান, পারভেজ (৭), রুমেনা (৫) ও ফারজান (৩) বিদ্যালয়ে যায় না। বয়স অনুপাতে তারা খর্বাকৃতির। দেহ জীর্ণ-শীর্ণ। অপুষ্টি কি এবং অপুষ্টির কারণে তার সন্তানদের কি ক্ষতি হতে পারে তা তিনি জানেন না।
এই গ্রামের বাসিন্দা রক্কু মিয়া ও সুনারা বেগম দম্পতির ৫ সন্তান। তারা হলেন আবু সাঈদ (১০ মাস), শাহরিয়ার (৫), বিউটি (৮), হোসাইন আহমদ (১০) এবং স্বপ্না বেগম (১৬)। ১০ মাসের শিশুটি খোসপাচড়ায় আক্রান্ত। তাকে দেখলেই অপুষ্টির চিত্র ফুটে ওঠে। পুষ্টি বলতে সুনারা বেগম যতটুকু জানেন, গর্ভাবস্থায় ভার্ড নামক  বেসরকারি সংস্থা কিছু গুড়, ভাজা চাল ও ডালের গুঁড়া এবং তেলের একটি প্যাকেট দিতো। তা বন্ধ হওয়ার পর  কোনো সন্তানই বিদ্যালয়ের মুখ দেখেনি। বড় ছেলে ও মেয়ে বাবা-মায়ের উত্তরাধিকার পেশায় এরই মধ্যে যুক্ত হয়েছে।
গোটা সাদিপুর গ্রামের শতাধিক গৃহবধূর সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, তাদের শিশুর জন্মকালীন ওজন সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। বাল্যবিয়ে এখানে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। হারও অনেক বেশি।
ফটিক মিয়া (৬০), ইনার মিয়া (৫৫), উসমান (৩৫) জানান, অপুষ্টি সম্পর্কে তারা জানেন না। এখানে সরকারি জন্ম নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রমও কেউ মানে না। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কার্যক্রমের চরম দুরবস্থার চিত্র ফুটে ওঠে প্রতিটি দম্পতির সন্তান সংখ্যা জানলেই। ওই বিভাগের কর্মী একটি বাড়িতে বসেই নিজের কাজ সম্পাদন করে থাকেন। তবে টিকাদান কার্যক্রম ২টি কেন্দ্রে পরিচালিত হয়। সব মায়েরাই তাদের শিশুদের টিকা দেন। তবে শতভাগ গর্ভবতী নারী টিকা নেন না।
গোটা সাদিপুর গ্রামে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার শিকার কোনো শিশু নেই। এলাকার লোকজনের মতে, গ্রামের শতকরা ৮০ ভাগ লোক মৎস্যজীবি হওয়ায় তারা অসচেতন। দারিদ্র্যতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকেন এখানকার বাসিন্দারা। অভাবের কারণে অসুখ-বিসুখে কেউ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারেন না। তবে অবস্থা সংকটাপন্ন হলেই কেবল তারা সরকারি হাসপাতালের দ্বারস্থ হন।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, সাদিপুর জেলেপল্লীর একটি বিশাল এলাকা। বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছে। প্রশিক্ষণ  শেষ হলেই অপুষ্টির শিকার শিশুদের জরিপ কাজ শুরু হবে। মুয়াক পদ্ধতিতে অপুষ্টির শিকার শিশুর জরিপ কাজ করা হবে। এ ব্যাপারে অবশ্যই হাওরাঞ্চলকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে।

৫২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে ৪৪তম বিজ্ঞান মেলা- ২০২২ উদযাপিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণার মদনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ৪৪তম জাতীয় ...

মদনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ- ২০২২ উদযাপন

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ ‘দুর্ঘটনা দুর্যোগ হ্রাস করি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ...