Home | আন্তর্জাতিক | অবশেষে চাঁদের পানে উড়েছে ভারতের মহাকাশযান ‘চন্দ্রযান-২’

অবশেষে চাঁদের পানে উড়েছে ভারতের মহাকাশযান ‘চন্দ্রযান-২’

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : : অবশেষে চাঁদের পানে উড়েছে ভারতের মহাকাশযান ‘চন্দ্রযান-২’। ভারতের এ মহাকাশযানটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অভিযান চালাবে। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদে আমেরিকা, রাশিয়া ও চীন বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করলেও এখন পর্যন্ত আর কোনও দেশ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অভিযান পরিচালনা করেনি। ফলে চন্দ্রযান-২ দিয়ে ভারতই প্রথম এই অভিযানে নাম লেখালো।

ভারতের গণমাধ্যমগুলোর খবর মতে, সোমবার অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের লঞ্চ প্যাড থেকে ‘চন্দ্রযান-২’ চাঁদের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। চন্দ্রযান-২ এর ডাক নাম ‘বাহুবলী’। এর উচ্চতা ৪৪ মিটার। এ প্রকল্পের ব্যয় ৯৭৮ কোটি। অভিযানটি সফল হলে ভারত বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ দেশ হিসাবে চাঁদে ‘পা’ রাখবে।
গোটা অভিযানটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’। ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাটি মহাকাশ গবেষণায় বিশে^ অন্যতম। এর আগে ২০০৮ সালে ভারত প্রথম চাঁদে ‘চন্দ্রযান-১‘ প্রেরণ করে। কিন্তু চাঁদে অবতরণের কিছুক্ষণ পূর্বে মহাকাশযানটি ধ্বংস হয়ে যায়।

গত রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিট থেকে ‘চন্দ্রযান-২’ প্রেরণের কাউন্টডাউন শুরু হয়। বিশ ঘন্টা পর আজ দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে কাউন্টডাউন শেষ হয়। ভারতীয় টেলিভিশনে হাজার হাজার মানুষ চাঁদে মহাকাশযান উড্ডয়ন সরাসরি উপভোগ করে।

গেল সপ্তাহের সোমবার ‘চন্দ্রযান-২‘ মহাকাশযান প্রেরণের তারিখ নির্দিষ্ট ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ত্রুটি সনাক্ত হওয়ায় মহাকাশযানটির প্রেরণ স্থগিত করা হয়। পরে ইসরো ২২ জুলাইকে পরবর্তী উড্ডয়নের তারিখ ঘোষণা করে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুর এ অভিযানে সময় লাগবে এক বছর। ‘চন্দ্রযান-১‘ এর মেয়াদ ছিল এক বছর চার মাস। তবে তা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছার আগেই কক্ষপথে ধ্বংস হয়ে যায়। ধ্বংস হওয়ার আগে ‘চন্দ্রযান-১’ চাঁদে জলের কণার উপস্থিতির প্রমাণ পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।
চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছাতে ‘চন্দ্রযান-২‘ কে প্রায় ৩.৮৪ লাখ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হবে। নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছাতে পাঁচ দিন সময় লাগবে। চাঁদের মাটি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে ঘুরতে থাকা স্যাটেলাইটটি ক্রমাগত চাঁদের পৃষ্ঠের ছবি তুলে পাঠাতে থাকবে।

ভারতীয় বিজ্ঞানীদের কাছে চাঁদের মাটিতে ‘চন্দ্রযান-১‘ কে অক্ষত ও মসৃণ অবস্থায় অবতরণ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এ কারণে ইসরো ‘চন্দ্রযান-২‘ অভিযানের অবতরণকে ‘ভয়ঙ্কর ১৫ মিনিট’ বলছে।

চন্দ্রযানটি তিনটি ভাগে বিভক্ত। অরবিটার, অর্থাৎ স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ, যা চাঁদের কক্ষপথ ঘুরবে। ল্যান্ডার, অর্থাৎ যা চাঁদের মাটিতে নামবে এবং চন্দ্রযানকে নামাবে। তৃতীয়টি হলো রোভার, যা মূল অনুসন্ধানকারী যান। এটি চাঁদের মাটিতে জল ও অন্যান্য খনিজ পদার্থের সন্ধান চালাবে। উপরের তিনটি অংশসহ মূল মহাকাশযানের মিলিত ওজন প্রায় ৩৮৫০ কেজি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দিলীপ ঘোষকে মারতে বাংলাদেশি সুপারি কিলার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : হামলার আশঙ্কায় বাড়ি বদল করলেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি। দিলীপ ঘোষ নিজেই ...

কাশ্মীরের এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী ব্রিটেনের শয়তানিসুলভ পদক্ষেপ : ইরান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ...