Home | জাতীয় | ‘অধিক মুনাফার লোভেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র’

‘অধিক মুনাফার লোভেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র’

anu ahmedস্টাফ রিপোর্টার : তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পাদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে সুন্দরবন ধ্বংস হলে সর্বপ্রথম খুলনা বিভাগ বসবাসের অযোগ্য হবে। পরে সারা বাংলাদেশের ক্ষতি হবে। তাই জীবন দিয়ে হলেও পরিবেশ বিরোধী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিহত করা হবে। খুলনা বিভাগের মানুষকে সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, লংমার্চের সাফল্য দেখে যারা এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে চেয়েছিলেন তারা ভীত হয়ে আবল-তাবল বকা শুরু করেছেন। তারা সরকারি প্রেসনোট দিয়ে বলেছে সুন্দরবনের নাকি কোন ক্ষতি হবে না।
সারাদেশের মানুষ বুঝতে পারলেও তারা অধিক মুনাফার লোভে এই সত্যটি বুঝতে চাইছেন না। তারা সকল নিয়ম-নীতি আইন ভঙ্গ  এবং জনমতকে উপেক্ষা করে সুন্দরবন ধ্বংসকারী এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপণের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আজ শনিবার সকালে খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির লংমার্চের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় রক্ষা কমিটির খুলনা জেলা আহবায়ক ডা. মনোজ কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় লংমার্চের সমাবেশ শুরু হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করার ঘোষণা দেন জাতীয় কমিটির আহবায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. শহিদুল্লাহ।
সমাবেশে লংমার্চে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বামদল ও পরিবেশবাদী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করে সমাবেশে অংশ নেয়। পরে লংমার্চ বাগের হাটের মংলার দ্বিগরাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমরা যৌক্তিক তথ্যদিয়ে বুঝিয়েছি সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করলে সুন্দরবন ও তার সংলগ্ন নদ-নদী,মাটি-বায়ু বিষক্ত হয়ে যাবে। তারা আমাদের এই যুক্তি খন্ডন করতে পারেনি।’
তিনি ‘গো ব্যাক এনটিপিসি, গো ব্যাক ইন্ডিয়া’ স্লোগান দিয়ে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে যদি আমেরিকা, রাশিয়া বা চীনা কোন কোম্পানীকেও এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সরকার আনে, আমরা একই চেতনায় এর বিরোধীতা করবো।
এদিকে লংমার্চকে কেন্দ্র করে খুলনা বিভাগীয় পুলিশ প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলনা ও বাগেরহাট প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। খুলনার ফুলতলা থেকে রামপালের দ্বিগরাজ পর্যন্ত এলাক পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জঙ্গি হামলার কথা মাথায় রেখে ঈদে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে: পুলিশ কমিশনার

স্টাফ রিপোর্টার : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দেশে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই ...

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চায় না, এটা নিয়ে তারা রাজনীতি করতে চাইছে : ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার :  খালেদা জিয়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমএইচে চিকিৎসার জন্য যেতে রাজি ...